পিছু
আফিফি ঈশিতা
নীলার মাথায় একটা ভূত চেপেছে—বিয়ের পর সবাই মধুচন্দ্রিমার নাম করে ঘুরতে যায়; কিন্তু নীলা যাবে বিয়ের আগে। ও ভালোবাসে এমন কারও সঙ্গে। নীলা ভালোবাসে রাজপুত্রের মতো দেখতে এক ছেলেকে। ছেলেটাও তাকে পাত্তা দেয় হয়তো অবুঝের মতো ভালোবাসে, তাই। ঠিকও হয়ে গেল ঘুরতে যাওয়া। রাজপুত্র আর সে ছাড়া কেউ জানে না যাওয়ার কথাটা। বাসে চড়ে দুজন গল্প করছে, হাসছে। নীলার চোখের কোনায় একটা পরিচিত মুখ ভেসে উঠল। সে একটু নড়েচড়ে বসে। মনে মনে ভাবছে, এখানে সে কী করতে এসেছে? নীলা নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করল, আবার আড় চোখে দেখছে, তাকে দেখে ফেলে কি না। চিনে নেয় কি না। না, ভাবে মনে হলো চিনতে পারেনি। সকালে বাস থেকে নেমে হোটেলে যে রুমে ঢুকবে, সেটার পাশের ঘরেই ঢুকছে তিনি। নীলার খুব বিরক্তি লাগল। তখনো মনে হয়নি চিনতে পেরেছে। এবার খাবার হোটেল, সাগরের পাড়, শপিং মল—সব জায়গায় তার সঙ্গে দেখা হতে থাকে। কোনো কথা হয় না, চিনতে পেরেছে বলে মনেও হয় না।
নীলা ঠিক করেছে, এবার রাতে ঘুরতে বেরোবে। তা-ই করল। সাগর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে একটা আসনে বসে দুজন কষ্টের কথা ভাগাভাগি করছে। ভালোবাসা যদি একতরফা হয়, তবে দুঃখের কথাই বেশি হয় সেখানে—এটা নীলার ধারণা। দুঃখের কথা বলতে বলতে আর শুনতে শুনতে কেঁদে ওঠে নীলা। চোখ মুছতে মুছতে পাশের সিটে তাকায়। দেখে, এক জোড়া বিড়ালের মতো চোখ ছলছল করছে আর তার দিকে চেয়ে আছে। আসার সময়ও বাসে দেখা হয়েছে। তবে নীলা নিশ্চিত ছিল, তাকে চেনেনি। কারণ, দুজনের ছবিও তুলতে চেয়েছে সে।
বাসায় ফিরে ফেসবুকে ঢুকেই অবাক! ইনবক্সে লেখা, তোমার পিছু নেওয়ার ইচ্ছে আমার ছিল না, এত ভালোবাসলাম আমি, তোমাকে তা বলা হয়নি। এভাবে তোমাকে অন্য কারও সঙ্গে দেখে ফেলব, তা-ও ভাবিনি। কষ্ট পেতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল, তাই পিছু নিয়েছি। তবে রাজপুত্র যে তোমাকে ভালোবাসে না, সে আমি বুঝে নিয়েছি। তোমার আর আমার মধ্যে একটা মিল আছে। তুমি কষ্ট পাও অন্যজনের জন্য, আমি পাই তোমার জন্য। তোমাকে স্টেশনে দেখেই আমি পিছু নিয়েছিলাম। মাফ করে দিয়ো আমাকে। নীলা চোখ স্থির করে ইনবক্সের লেখাগুলোর দিকে চেয়ে আছে। স্থির চোখের কোনায় জলও খানিক।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন