অবদানকারী

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

আমার সেই বাল্যসখী

আবু তাহের মিয়া

 

সেদিন কলেজের একটা কালচারার প্রোগ্রামে অংশ নিতে বাড়ি থেকে সকালবেলা দ্রুত কলেজের উদ্দেশে রওনা হলাম। মায়ের শত বলা সত্ত্বেও কোনো রকম দুটি রুটি খেয়েই চলে এলাম। ঠিক সময়ে না গেলে এবারও আমাদের প্রোগ্রামটা অপূর্ণ থাকবে। কী করা, যে তাগিদেই হোক যেতে হচ্ছে।
বাসে উঠে দাঁড়িয়ে আছি, পাবলিক বাসে একটা সিট পাওয়া মানে রাজসিংহাসন লাভ করার মতো। অবশ্য দাঁড়িয়ে ছিলাম মাত্র তিন-চারজন যাত্রী। আমি বসার তোয়াক্কা না করে মনে মনে প্রোগ্রাম নিয়ে ভাবছি। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার পাশের সিটে বসা বোরকা পরা এক মেয়ে। কিছু দূর আসার পর হঠাৎ মেয়েটি আমাকে বলল, তাহের..!
আমি ফিরে তাকালাম। জি হ্যাঁ, আপনি?
আমি শারমিন। চিনতে পেরেছিস?
সে কথা আর কানে গেল না। ওর কণ্ঠ শুনেই আমি ওকে চিনলাম। ১২ বছর আগের সেই পরিচিত কণ্ঠ, যেন হাজার বছর ধরে হৃদয়ে অনুরণিত হয়েছে।
ভালো আছি, তুই কেমন আছিস? বেশ কিছু কথা হলো। সেই কবে দেখা, কবে কথা হয়েছে, আজ এত বছর পর যেন নতুন করে বাল্যকালে ফিরে গেলাম।
পাঁচ বছর একসঙ্গে পড়েছি। সে সময় আমরা একসঙ্গে খেলেছি, পড়েছি। তারপর কেমনে যে ও হারিয়ে গেল।
সব দিক থেকে মনে হচ্ছে, আজকের দিনটা সার্থক। যে বাল্যসখীকে অনেক বছর আগে হারিয়েছি, আজ তারই সাক্ষাৎকে ১২ বছরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে হলো।